বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার চালিকাশক্তি—সহকারী শিক্ষকরা আজও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিশ্রুতি শুনেও তারা এখনো পাননি ১১তম গ্রেড, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি কিংবা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সুযোগ। এমন এক প্রেক্ষাপটে রাজশাহী-রংপুর বিভাগের সহকারী শিক্ষকদের সম্মিলিত উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সম্মেলন, যেখানে বক্তারা বারবারই বলেছেন—“দাবি আদায়ে একমাত্র পথ হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন”।
শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও পদোন্নতির দাবিতে বগুড়ায় বৃহৎ সম্মেলন
শনিবার, দুপুরে বগুড়া জেলা স্কুলের মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দুলাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী-রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষক প্রতিনিধি সম্মেলন। আয়োজক ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাসেল কবির।
বক্তব্য রাখেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তপন কুমার মন্ডল, সদস্য শাহিনুর আল-আমীন, মোছা. শাহিনুর আকতার, মো. আনিছুর রহমান, মোছা. সাবেরা বেগম, অজিত পাল, নুর আলম, এবং জহিরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও স্থানীয় নেতারা, যারা সকলে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে আওয়াজ তোলেন।
সম্মেলনের মূল দাবি ও অবস্থান
এই প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষক পেশার মর্যাদা, স্থিতিশীলতা এবং সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনটি মূল দাবির পক্ষে সোচ্চার হন—
📌 প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি গ্রেড ১১তম স্কেলে উন্নীত করা
📌 শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বাস্তবায়ন
📌 উচ্চতর গ্রেড প্রদানে জটিলতা দূর করা
এই দাবিগুলো শুধু ন্যায্যই নয়, বরং দেশের শিক্ষার মান উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা চিঠি চালাচালি, দাবি পেশ ও অপেক্ষা করেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। তাই এখন সময় এসেছে দাবিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার। এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আগামী ৩০ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশকে সফল করা। বক্তারা সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে সেখানে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেওয়ার আহ্বান জানান।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | শিক্ষক নেতৃবৃন্দের দাবি |
|---|---|---|
| এন্ট্রি গ্রেড | ১৩তম গ্রেড | ১১তম গ্রেড |
| পদোন্নতির হার | আংশিক বিভাগীয় পদোন্নতি | শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি |
| উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্তি | নানান প্রশাসনিক জটিলতা | জটিলতা মুক্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া |
| পেশার মর্যাদা | কম বেতন ও স্বীকৃতির অভাব | সম্মানজনক বেতন ও সামাজিক মর্যাদা |
| আন্দোলনের ঐক্য | বিচ্ছিন্নভাবে চলছে | ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রীয় আন্দোলন |
বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষক একই শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর তুলনায় কম বেতন পান। কাজের চাপ, পাঠ পরিকল্পনা, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিবেচনায় একজন শিক্ষক কেবল শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং সমাজ গঠনে তাঁর ভূমিকা অনেক বেশি। অথচ সরকারি সুবিধা কিংবা প্রাপ্য সম্মান পান না তারা।
শিক্ষকদের উদ্দেশে বার্তা
প্রতিনিধি সম্মেলন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—ছোট ছোট দাবি নিয়ে আলাদা আলাদা অবস্থানে থাকলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। এজন্য শিক্ষক সমাজকে এখনই একসাথে হয়ে, নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে পরিকল্পিত আন্দোলনে নামতে হবে।
এই মহাসমাবেশে উপস্থিত থেকে দেশের সকল শিক্ষককে তাঁদের শক্তি ও সংহতির বার্তা দিতে হবে। যাতে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধানে এগিয়ে আসে।
প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি শুধু তাদের নিজের স্বার্থের প্রশ্ন নয়, এটি পুরো জাতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন। শিক্ষকরা যদি প্রাপ্য মর্যাদা, বেতন ও উন্নতির সুযোগ না পান, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার ভিত দুর্বল হয়ে যাবে। তাই সময় এসেছে সংগঠিত হওয়ার, দাবি আদায়ের জন্য একসাথে পথচলার।










