আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন ‘হার‘ শব্দটির আগে বিভিন্ন অক্ষর যোগ করে কীভাবে ‘আহার’, ‘বিহার‘, ‘প্রহার‘, বা ‘উপহার‘-এর মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থের শব্দ তৈরি হয়? বাংলা ভাষার এই জাদুকরী ক্ষমতার পেছনে রয়েছে এক বিশেষ ব্যাকরণগত উপাদান, যার নাম উপসর্গ। চলুন, আজ আমরা এই উপসর্গ কাকে বলে, এটি কীভাবে কাজ করে, এবং বাংলা ব্যাকরণে এর গুরুত্ব কতখানি, তা সহজ ভাষায় বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
উপসর্গ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি
“উপসর্গ কাকে বলে” এই প্রশ্নের সবচেয়ে সহজ উত্তর হলো- উপসর্গ হলো এমন কিছু অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যাদের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই, কিন্তু এরা অন্য শব্দের আগে বা শুরুতে বসে নতুন শব্দ তৈরি করে এবং মূল শব্দটির অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়।
উদাহরণ হিসেবে, ‘ন্যায়‘ একটি শব্দ, যার অর্থ সঠিক বা উচিত। এর আগে ‘অ’ উপসর্গটি যোগ করলে হয় ‘অন্যায়’, যা ‘ন্যায়’-এর সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ বহন করে। এখানে ‘অ’ উপসর্গটি নিজে কোনো অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও ‘ন্যায়’ শব্দের অর্থকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এটিই হলো উপসর্গের মূল কাজ।
উপসর্গ সাধিত শব্দ কি?
যেসব শব্দ উপসর্গের সাহায্যে গঠিত হয়, তাদেরকেই উপসর্গ সাধিত শব্দ বলা হয়। সহজ কথায়, যখন একটি মূল শব্দের আগে একটি উপসর্গ যুক্ত হয়ে একটি নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে, সেই নতুন শব্দটিই হলো উপসর্গ সাধিত শব্দ।
উদাহরণ:
- উপ (উপসর্গ) + কার (মূল শব্দ) = উপকার (নতুন শব্দ)
- প্র (উপসর্গ) + চার (মূল শব্দ) = প্রচার (নতুন শব্দ)
- বি (উপসর্গ) + ফল (মূল শব্দ) = বিফল (নতুন শব্দ)
এই উদাহরণগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, উপসর্গ কাকে বলে এবং উপসর্গ সাধিত শব্দ কীভাবে গঠিত হয়।
উপসর্গের কাজ কি?
উপসর্গের প্রধান কাজ হলো বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করা। এটি একটি শব্দের আগে বসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে:
১. নতুন শব্দ তৈরি করা: উপসর্গ নতুন শব্দ তৈরি করে ভাষার বৈচিত্র্য বাড়ায়। যেমন – ‘দেশ’ শব্দের আগে ‘প্র’ যোগ করে ‘প্রদেশ’ বা ‘বি’ যোগ করে ‘বিদেশ’ শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা দেওয়া: কখনো কখনো উপসর্গ একটি শব্দের অর্থকে আরও স্পষ্ট ও পূর্ণ করে তোলে। যেমন – ‘তাপ’ শব্দের আগে ‘প্র’ যোগ করে ‘প্রতাপ’ শব্দটি তৈরি হয়, যা তাপের তীব্রতাকে বোঝায়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ: উপসর্গ শব্দের মূল অর্থকে আরও প্রসারিত করে। যেমন – ‘দান’ মানে দেওয়া, কিন্তু এর আগে ‘প্র’ যোগ করলে হয় ‘প্রদান’, যা সম্মানের সঙ্গে দেওয়ার অর্থ প্রকাশ করে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন: কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ শব্দের অর্থকে সংকুচিত করে। যেমন – ‘উপ’ উপসর্গটি ‘ছোট’ বা ‘কাছাকাছি’ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন – নদী > উপনদী, সাগর > উপসাগর।
৫. বিপরীতার্থক শব্দ গঠন: উপসর্গ অনেক সময় মূল শব্দের বিপরীত অর্থ তৈরি করে। যেমন – মান > অপমান, জয় > পরাজয়, সৎ > অসৎ।
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য
উপসর্গকে ভালোভাবে চিনতে হলে এর কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য জেনে রাখা প্রয়োজন:
- অর্থহীনতা: উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। এরা একা ব্যবহৃত হতে পারে না।
- অবস্থান: উপসর্গ সবসময় শব্দের শুরুতে বা পূর্বে বসে।
- অর্থদ্যোতকতা: নিজে অর্থহীন হলেও এরা শব্দের অর্থ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে, অর্থাৎ অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করে।
- নতুন শব্দ গঠন: উপসর্গের প্রধান কাজই হলো নতুন শব্দ তৈরি করা।
- অপরিবর্তনীয়তা: উপসর্গগুলো অব্যয় হওয়ায় এদের কোনো রূপের পরিবর্তন হয় না।
উপসর্গ কত প্রকার ও কী কী?
বাংলা ভাষায় উৎস অনুযায়ী উপসর্গকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: ১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২. তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ৩. বিদেশি উপসর্গ
আসুন, এই প্রত্যেকটি প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ কাকে বলে?
যেসব উপসর্গ বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদ, অর্থাৎ কোনো বিদেশি বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসেনি, সেগুলোকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। এই উপসর্গগুলো সাধারণত তদ্ভব বা দেশি শব্দের আগে ব্যবহৃত হয়।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কয়টি?
বাংলা ভাষায় মোট ২১টি খাঁটি বাংলা উপসর্গ রয়েছে।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ গুলো কী কী?
এই ২১টি উপসর্গ হলো: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন, কদ্, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ দিয়ে শব্দ গঠন:
- অ: অকাজ, অবেলা, অচেনা (নেতিবাচক বা অভাব অর্থে)
- অঘা: অঘারাম, অঘাচণ্ডী (বোকা বা খারাপ অর্থে)
- অজ: অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ (নিতান্ত বা অত্যন্ত অর্থে)
- অনা: অনাবৃষ্টি, অনাদর (অভাব অর্থে)
- আ: আধোয়া, আলুনি (অভাব বা বিকৃত অর্থে)
- আড়: আড়চোখে, আড়মোড়া (বক্র বা বাঁকা অর্থে)
- আন: আনকোরা, আনমনা (বিক্ষিপ্ত বা নতুন অর্থে)
- আব: আবছায়া, আবডাল (অস্পষ্টতা অর্থে)
- ইতি: ইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে (এর বা পুরনো অর্থে)
- উন: ঊনিশ, উনপাজুরে (কম অর্থে)
- কদ্: কদবেল, কদর্য (খারাপ বা নিন্দা অর্থে)
- কু: কুকথা, কুকাজ (খারাপ অর্থে)
- নি: নিখুঁত, নিলাজ (নাই বা না অর্থে)
- পাতি: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল (ছোট অর্থে)
- বি: বিভুঁই, বিপদ (ভিন্নতা বা অভাব অর্থে)
- ভর: ভরপেট, ভরদুপুর (পূর্ণতা অর্থে)
- রাম: রামছাগল, রামদা (বড় বা উৎকৃষ্ট অর্থে)
- স: সজাগ, সরব (সঙ্গে বা सहित অর্থে)
- সা: সাজিরা, সামর্থ্য (उत्कृष्ट বা ভালো অর্থে)
- সু: সুনজর, সুখবর (ভালো বা উত্তম অর্থে)
- হা: হাভাতে, হাঘরে (অভাব অর্থে)
২. তৎসম উপসর্গ কাকে বলে?
যেসব উপসর্গ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের আগে ব্যবহৃত হয়, তাদের তৎসম উপসর্গ বলে।
তৎসম উপসর্গ কয়টি?
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম উপসর্গের সংখ্যা ২০টি।
তৎসম উপসর্গ গুলো কী কী?
এই ২০টি উপসর্গ হলো: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
তৎসম উপসর্গ দিয়ে শব্দ গঠন:
- প্র: প্রভাব, প্রচার, প্রবেশ (আধিক্য বা গতি অর্থে)
- পরা: পরাজয়, পরাকাষ্ঠা, পরাভব (বিপরীত বা আধিক্য অর্থে)
- অপ: অপমান, অপচয়, অপবাদ (বিপরীত বা মন্দ অর্থে)
- সম: সম্পূর্ণ, সম্মান, সমাদর (সম্যক বা সঙ্গে অর্থে)
- নি: নিবৃত্তি, নিপাত, নিযুক্ত (নিশ্চয়তা বা অভাব অর্থে)
- অব: অবকাশ, অবতরণ, অবজ্ঞা (হীনতা বা নিচে অর্থে)
- অনু: অনুবাদ, অনুশোচনা, অনুচর (পশ্চাৎ বা মতো অর্থে)
- নির: নির্জন, নির্ণয়, নিরুদ্দেশ (নাই বা অভাব অর্থে)
- দুর: দুর্লভ, দুর্নীতি, দুরবস্থা (মন্দ বা কঠিন অর্থে)
- বি: বিজ্ঞান, বিফল, বিবাদ (বিশেষ বা অভাব অর্থে)
- অধি: অধিকার, অধিপতি, অধিনায়ক (উপরে বা আধিপত্য অর্থে)
- সু: সুকণ্ঠ, সুদিন, সুস্বাগত (উত্তম বা সহজ অর্থে)
- উৎ: উন্নতি, উৎসব, ઉત્પীড়ন (ঊর্ধ্বে বা আধিক্য অর্থে)
- পরি: পরিবর্তন, পরিপূর্ণ, পরীক্ষা (চতুর্দিক বা সম্পূর্ণ অর্থে)
- প্রতি: প্রতিদিন, প্রতিকূল, প্রতিবাদ (বিরোধ বা দিকে দিকে অর্থে)
- অভি: অভিযান, অভিনয়, অভিমত (দিকে বা সম্যক অর্থে)
- অতি: অত্যাচার, অতিরিক্ত, অতিশয় (আধিক্য বা অতিক্রম অর্থে)
- অপি: অপিনিহিতি (যদিও এর ব্যবহার বাংলায় খুবই কম)
- উপ: উপকণ্ঠ, উপমহাদেশ, ഉപগ্রহ (নিকট বা ক্ষুদ্র অর্থে)
- আ: আমরণ, আরক্ত, আদান (পর্যন্ত বা বিপরীত অর্থে)
৩. বিদেশি উপসর্গ কাকে বলে?
ঐতিহাসিক কারণে বাংলা ভাষায় আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি ইত্যাদি নানা ভাষা থেকে বহু শব্দ প্রবেশ করেছে। সেই শব্দগুলোর সঙ্গে কিছু উপসর্গও বাংলায় প্রচলিত হয়েছে। এগুলোকেই বিদেশি উপসর্গ বলা হয়।
বিদেশি উপসর্গ কয়টি?
বিদেশি উপসর্গের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, কারণ বিভিন্ন ভাষা থেকে আগত উপসর্গ বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
বিদেশি উপসর্গ দিয়ে শব্দ গঠন:
- ফারসি উপসর্গ: কম, না, ফি, বদ, ব, বে, দর।
- কম: কমজোর, কমবখত (স্বল্প অর্থে)
- না: নারাজ, নামঞ্জুর (না অর্থে)
- ফি: ফিবছর, ফি-রোজ (প্রতি অর্থে)
- বদ: বদনাম, বদমেজাজ (মন্দ অর্থে)
- বে: বেয়াদব, বেআইনি (না বা ছাড়া অর্থে)
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর।
- আম: আমজনতা, আমদরবার (সাধারণ অর্থে)
- খাস: খাসমহল, খাসখবর (বিশেষ অর্থে)
- লা: লাপাত্তা, লাجواب (না অর্থে)
- গর: গরহাজির, গরমিল (অভাব অর্থে)
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
- হেড: হেডমাস্টার, হেড-অফিস (প্রধান অর্থে)
- সাব: সাব-ইন্সপেক্টর, সাব-জজ (অধীন অর্থে)
- ফুল: ফুলহাতা, ফুলপ্যান্ট (পূর্ণ অর্থে)
- হাফ: হাফ-টিকিট, হাফ-স্কুল (অর্ধেক অর্থে)
- হিন্দি/উর্দু উপসর্গ: হর।
- হর: হররোজ, হরেক (প্রত্যেক অর্থে)
প্রত্যয় ও উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য কী?
উপসর্গ এবং প্রত্যয় দুটিই নতুন শব্দ গঠনে সাহায্য করে, কিন্তু এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। উপসর্গ কাকে বলে তা বোঝার পাশাপাশি প্রত্যয়ের সঙ্গে এর পার্থক্য জানাও জরুরি।
| বৈশিষ্ট্য | উপসর্গ | প্রত্যয় |
| অবস্থান | শব্দের শুরুতে বা পূর্বে বসে। | শব্দের শেষে বা পরে বসে। |
| অর্থ | নিজস্ব অর্থ নেই, কিন্তু শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে। | অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থ থাকে না, তবে নতুন শব্দ তৈরি করে। |
| কাজ | মূলত শব্দের অর্থ পরিবর্তন করে। | মূলত শব্দের শ্রেণি (বিশেষ্য থেকে বিশেষণ ইত্যাদি) পরিবর্তন করে। |
| উদাহরণ | অ + ন্যায় = অন্যায় (‘অ’ উপসর্গ) | সমাজ + ইক = সামাজিক (‘ইক’ প্রত্যয়) |
সহজ কথায়, উপসর্গ হলো শব্দের সামনের অলংকার আর প্রত্যয় হলো শব্দের শেষের অলংকার।
উপসর্গ মনে রাখার কৌশল
এতগুলো উপসর্গ মনে রাখা অনেক সময় কঠিন মনে হতে পারে। কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যাবে:
- ছড়া বা গল্প তৈরি: তৎসম উপসর্গগুলো মনে রাখতে একটি ছোট ছড়া তৈরি করতে পারেন। যেমন: “প্র, পরা, অপ, সম, নি/অব, অনু, নির, দুর/বি, অধি, সু, উৎ, পরি/প্রতি, অভি, অতি, অপি/উপ, আ মিলে কুড়ি।”
- উদাহরণ দিয়ে মনে রাখা: প্রতিটি উপসর্গের পাশে একটি করে সহজ ও পরিচিত উদাহরণ লিখে অনুশীলন করুন। যেমন – ‘সু’ দেখলেই ‘সুখবর’ বা ‘সুদিন’ মনে করুন।
- ফ্ল্যাশকার্ড ব্যবহার: কার্ডের একপাশে উপসর্গ এবং অন্য পাশে তার উদাহরণ ও অর্থ লিখে নিয়মিত অনুশীলন করুন।
- ভাগ করে পড়া: একদিনে সব না পড়ে, খাঁটি বাংলা, তৎসম ও বিদেশি—এই তিনটি ভাগে ভাগ করে আলাদা আলাদা দিনে পড়ুন।
- প্রাত্যহিক ব্যবহার: সংবাদপত্র পড়ার সময় বা বই পড়ার সময় উপসর্গ সাধিত শব্দ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে বিষয়টি আরও ভালোভাবে মনে থাকবে।
এই প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সহজ ও নির্দিষ্ট। উপসর্গ সবসময় শব্দের শুরুতে বসে। এর অবস্থান কখনো পরিবর্তন হয় না। যেমন: ‘কার’ শব্দের আগে ‘উপ’ বসে ‘উপকার’ হয়, কিন্তু ‘কারউপ’ হয় না।
উপসর্গ দিয়ে শব্দ গঠনের নিয়ম
পাঠক বন্ধুরা, উপসর্গ কাকে বলে তা বোঝার পর এর গঠনরীতি জানা প্রয়োজন। উপসর্গ দিয়ে শব্দ গঠনের কিছু সাধারণ নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
- সরাসরি সংযোগ: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপসর্গ সরাসরি মূল শব্দের আগে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই যুক্ত হয়। যেমন – বি + নাম = বেনাম; সু + ফল = সুফল।
- সন্ধির নিয়ম প্রয়োগ: কিছু তৎসম উপসর্গ যুক্ত হওয়ার সময় সন্ধির নিয়ম অনুসারে মূল শব্দের সঙ্গে মিলিত হয়। যেমন – প্রতি + আশা = প্রত্যাশা; অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- অর্থের সামঞ্জস্য: যে কোনো শব্দের আগে যে কোনো উপসর্গ বসানো যায় না। মূল শব্দ এবং উপসর্গের মধ্যে অর্থের একটি যৌক্তিক সামঞ্জস্য থাকতে হয়।
উপসংহারে বলা যায়, উপসর্গ বাংলা ভাষার এক অপরিহার্য উপাদান। নিজে অর্থহীন হয়েও এরা শব্দভান্ডারকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন শব্দ উপহার দিয়ে সমৃদ্ধ করে চলেছে। আশা করি, উপসর্গ কাকে বলে এবং এর যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় এখন আপনার কাছে জলের মতো পরিষ্কার।










