সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত ২০২৫

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য সুখবর! সরকার তাদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) প্রস্তাব তৈরি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত হবে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৩৪১ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত ২০২৫

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠানো প্রস্তাবটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যাবে। সেখানে অনুমোদন পেলে অফিস আদেশ জারি করে এটি কার্যকর করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, গত রোববার এই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ৪৫ জন রিটকারী শিক্ষক ছাড়াও অন্য সব প্রধান শিক্ষকের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত হবে।”

প্রস্তাবটি কবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে কামরুল হাসান বলেন, “এখনই নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছি।” এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে শিক্ষকরা দ্রুত এই সুবিধা পান।

প্রধান শিক্ষকদের সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬৫ হাজার ৫০২টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৩৫২ জন। গত ১৯ জুন উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১১তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করে অর্থ মন্ত্রণালয় অফিস আদেশ জারি করে। এর আগে, ১৩ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখেন, যেখানে প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। সেই সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের জন্য ১১তম এবং অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক মনে করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেয়, যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বহাল থাকে।

এই বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত কার্যক্রম পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি তাদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো শিক্ষা পরিবেশ তৈরি করবে।

শিক্ষা সংক্রান্ত সর্বশেষ খবর জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট admissiongo.com