বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ব্যাংকিং খাতে উৎসাহিত করতে এবং তাদের ক্যারিয়ার গঠনের পথ দেখাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST) একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি এবং সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘Empowering Youth: Engaging and Inspiring Youth in Banking’। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তরুণদের জন্য ব্যাংকিং পেশায় ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা তুলে ধরা।
সম্প্রত’i বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এই সেমিনারে বিভিন্ন বিভাগের ২৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই সেমিনার তরুণদের ব্যাংকিং খাতের সুযোগ-সম্ভাবনা, আর্থিক সাক্ষরতা এবং ক্যারিয়ার গঠনের দিকনির্দেশনা প্রদানের একটি প্রাণবন্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংকিং পেশার গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে।
সেমিনারের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ধারণা তুলে ধরা। এছাড়া, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে তারা শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। প্রাইম ব্যাংকের এই উদ্যোগ তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্য
সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কনজ্যুমার ও এসএমই ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এম. নাজিম এ. চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি ডিজিটাল জ্ঞান, ভাষার দক্ষতা, যোগাযোগ এবং উপস্থাপন দক্ষতা অর্জনের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। জনসমক্ষে কথা বলার দক্ষতা এবং নিজের ভাবনা প্রকাশে আত্মবিশ্বাস তাদের সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
এছাড়া, শায়লা আবেদীন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব লাইয়াবিলিটি, এবং এম এম মাহবুব হাসান, হেড অব ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং, তরুণদের উন্নয়ন এবং আর্থিক সাক্ষরতার মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রাইম ব্যাংক তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এবং আর্থিক সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
Prime Youth Account
সেমিনারে শিক্ষার্থীদের জন্য “Prime Youth Account” নামে একটি বিশেষ ব্যাংকিং পণ্যের পরিচিতি দেওয়া হয়। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। এই পণ্যটি শিক্ষার্থীদের আর্থিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে এবং আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| অ্যাকাউন্টের নাম | Prime Youth Account |
| লক্ষ্য | শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা |
| সুবিধা | তাৎক্ষণিক অ্যাকাউন্ট খোলা, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, কম খরচে লেনদেন |
| প্রাপ্তির যোগ্যতা | ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থী |
| উদ্দেশ্য | আর্থিক সাক্ষরতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি |
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. সাজেদুল করিম এবং সাস্ট ক্যারিয়ার ক্লাবের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. মোজাম্মেল হক। তাদের উপস্থিতি শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বকে তুলে ধরে। তারা শিক্ষার্থীদের ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন এবং এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্বের উপর জোর দেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রাইম ব্যাংকের সিলেট অঞ্চলের প্রধান মো. হুমায়ুন কবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তরুণদের সম্পৃক্ততা, আর্থিক শিক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে প্রাইম ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রাইম ব্যাংক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে আগ্রহী। এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞান, দক্ষতা এবং সম্ভাবনার মাধ্যমে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে। এই ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের তরুণদের আর্থিক সাক্ষরতা এবং ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রাইম ব্যাংক ও সাস্টের এই যৌথ উদ্যোগ তরুণদের জন্য ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতা, ডিজিটাল দক্ষতা এবং পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করেছে।










