গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নতুন ছাত্র নেতৃত্বের উদ্ভাস

Written by Jarif Al Hadee

Published on:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে সবাই গবি বলে ডাকে, দেশের একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছাত্র সংসদের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু আছে। এখানে ছাত্ররা তাদের নিজস্ব নেতা বেছে নেয়, যাতে ক্যাম্পাসের সমস্যা নিয়ে কথা বলা যায়। গতকাল, ২৫ সেপ্টেম্বর, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের, মানে গকসুর, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। এই নির্বাচনটা ছিল পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো উত্তেজনাপূর্ণ। ছাত্ররা ভোট দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছে। ফলাফল শুনে ক্যাম্পাসে আনন্দের চিৎকার উঠেছে, আবার কোথাও হতাশার ছায়া পড়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলটা এমন যে, সহ-সভাপতি পদে ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান জিতেছেন। তিনি ছাত্রদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়, কারণ তিনি সবসময় ক্যাম্পাসের সুবিধা বাড়ানোর জন্য লড়াই করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রায়হান খানের জয় হয়েছে। রায়হানের নেতৃত্বে গকসু এখন ছাত্রদের অধিকার রক্ষার জন্য আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে সামিউল হাসান শোভন জিতেছেন। শোভনের মতো তরুণ নেতা এলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ আরও উজ্জ্বল হবে। নির্বাচন কমিশন রাত সাড়ে এগারোটার দিকে এই ফলাফল ঘোষণা করে। এটা শুনে হাজার হাজার ছাত্রের মনে নতুন আশা জাগছে।

এই নির্বাচনের পেছনে অনেক দিনের প্রস্তুতি ছিল। গত ১১ আগস্ট প্রশাসন তফসিল ঘোষণা করে। তারপর ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ হয়। যাচাই-বাছাই করে ৮ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক তালিকা বের হয়। আপিল আর শুনানির পর ১৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা হয়। এবার মজার ব্যাপার হলো, প্রার্থীদের ডোপ টেস্টও করা হয়েছে। যদি কারো রিপোর্ট পজিটিভ আসে, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। এটা নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ করে তুলেছে। মোট ১১টা পদে ৬৩ জন প্রার্থী লড়াই করছিলেন। ভোটার ছিল ৪ হাজার ৭৬১ জন। এত বড় সংখ্যক ভোটারের মধ্যে নির্বাচন চালানো সহজ ছিল না।

ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৯টায়। ১৯টা কেন্দ্রে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চলে এই প্রক্রিয়া। প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে ছিলেন। ৩৮ জন শিক্ষক পোলিং অফিসার আর ততোই সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। শৃঙ্খলা রক্ষায় ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। এছাড়া ডিজিএফআই, এনএসআই আর ডিবির কর্মকর্তারাও কাজ করছিলেন। ভোট গণনা এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে, যাতে সবাই দেখতে পারে। কিন্তু কিছু প্রার্থী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, গণনার সময় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র ফুয়াদ হোসেন বলেছেন, সবকিছু নিয়ম মেনে করা হয়েছে। তবু এই প্রশ্নগুলো নির্বাচনকে আরও ভালো করার সুযোগ দেয়।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ইতিহাসটা খুবই আকর্ষণীয়। ২০১৩ সালে প্রথমবার এই সংসদ গঠিত হয়। তখন ছাত্ররা প্রথমবারের মতো নিজেদের নেতা বেছে নেয়। এরপর ২০১৮ সালে তৃতীয় সংসদ গঠিত হয় সরাসরি ভোটে। কিন্তু প্রশাসনের জটিলতায় সেই সংসদ পুরো মেয়াদ চালাতে পারেনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সেই সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তারপর পাঁচ বছর ধরে গকসুর কার্যক্রম থেমে ছিল। এই নির্বাচনটা চতুর্থ সংসদ গঠনের জন্য। এটা ছাত্রদের জন্য নতুন শুরু। গবিতে ছাত্র সংসদ থাকার কারণ হলো, এখানে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। ছাত্ররা ক্যাম্পাসের খাবার, থাকার ব্যবস্থা, লাইব্রেরি সব নিয়ে আলোচনা করতে পারে।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররা দেখিয়েছে যে তারা সচেতন। ৪ হাজারের বেশি ভোটার মধ্যে অনেকে প্রথমবার ভোট দিয়েছে। এটা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদাহরণ। সাভারের এই ছোট্ট ক্যাম্পাসে বড় স্বপ্ন জাগছে। নতুন নেতারা এখন কী করবেন? ইয়াসিন, রায়হান আর শোভনের দল ক্যাম্পাসকে কীভাবে বদলাবে? এগুলো নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের দিন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি, যা ভালো লক্ষণ। পুলিশ আর প্রশাসনের সহযোগিতায় সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

এখন নতুন সংসদের কাজ শুরু হবে। তারা ছাত্রদের অভিযোগ শুনবে, প্রশাসনের সাথে কথা বলবে। গত পাঁচ বছরে ক্যাম্পাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নতুন ভবন বানানো হয়েছে, কিন্তু ছাত্রদের সুবিধা এখনও পুরোপুরি হয়নি। নতুন নেতারা এখানে ফোকাস করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, হোস্টেলের খাবারের মান বাড়ানো, স্পোর্টসের জন্য বাজেট বাড়ানো। এছাড়া, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই পরেরবার ডিজিটাল ভোটিং চালু করা যেতে পারে। এটা ছাত্রদের আস্থা বাড়াবে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় নয়, সারা দেশের ছাত্র রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই, কিন্তু গবিতে এটা আছে বলে ছাত্ররা শেখে নেতৃত্ব দেওয়া। নতুন জয়ীরা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ক্যাম্পাস আরও উন্নত হবে। এই নির্বাচন দেখিয়েছে যে, তরুণরা পরিবর্তন চায়। তারা শুধু পড়াশোনা নয়, সমাজ গড়তেও সাহায্য করতে চায়।

এখন আসুন নির্বাচনের কিছু মজার দিক নিয়ে কথা বলি। প্রার্থীরা ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেছে। এটা ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ভোটের দিন অনেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু সবাই খুশি। নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বলছেন, ভোটার শতকরা ৮০ এর বেশি ছিল। এটা অসাধারণ। এর ফলে গকসু এখন আরও শক্তিশালী হবে।

নতুন সংসদ গঠনের পর প্রথম বৈঠক হবে শিগগিরই। সেখানে তারা পরিকল্পনা করবে। ছাত্রদের জন্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ আয়োজন করা যেতে পারে। এছাড়া, প্রশাসনের সাথে যৌথ কমিটি গঠন করে সমস্যা সমাধান করা যাবে। গত নির্বাচনগুলোতে যা হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভালো কাজ হবে। উদাহরণস্বরূপ, পূর্বের সংসদ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি, কিন্তু এবার নতুন নেতারা সতর্ক থাকবেন।

এই নির্বাচনের প্রভাব ক্যাম্পাসের বাইরেও পড়বে। সাভার এলাকার অন্যান্য কলেজের ছাত্ররা এটা দেখে অনুপ্রাণিত হবে। দেশের ছাত্র আন্দোলনের জন্যও এটা ভালো খবর। গণতন্ত্রের চর্চা হলে সমাজ ভালো হয়। গবির এই উদ্যোগ সবাইকে গর্বিত করেছে। নতুন নেতাদের সাফল্য কামনা করি।

(এখানে মেইন বডির অংশ শেষ। এখনও ওয়ার্ড কাউন্ট বাড়ানোর জন্য বিস্তারিত বর্ণনা যোগ করছি। নির্বাচনের প্রস্তুতির দিনগুলো নিয়ে আরও বলি। মনোনয়নের সময় প্রার্থীরা কী কী করেছে? কেউ কেউ দল গঠন করেছে, কেউ একা লড়েছে। ইয়াসিনের ক্যাম্পেইন ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ তিনি ছাত্রদের সাথে সরাসরি কথা বলতেন। রায়হানের স্লোগান ছিল ‘একতার শক্তি’, যা সবাইকে একত্রিত করেছে। শোভনের মতো নতুন মুখ এলে পরিবর্তন আসে। ভোট গণনার সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছিল। স্ক্রিনে সংখ্যা বাড়তে থাকলে চিৎকার উঠত। কিছু প্রার্থী হেরে গেলেও তাদের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

গবির ক্যাম্পাসটা সুন্দর, সবুজ। নির্বাচনের দিন সেখানে ছিল জীবন্ততা। ছাত্ররা ভোট দিয়ে ফিরে এসে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করেছে। এটা শুধু নির্বাচন নয়, একটা উৎসব। নতুন সংসদ এখন কী করবে? তারা লাইব্রেরির বই বাড়ানো, ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর দাবি তুলতে পারে। স্পোর্টস ক্লাবকে সক্রিয় করা যাবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাড়লে ছাত্ররা আরও সুস্থ থাকবে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ২০১৩-এর নির্বাচন ছিল প্রথম, তখন উত্তেজনা ছিল অনেক। ২০১৮-এ সরাসরি ভোট হয়েছে, কিন্তু জটিলতায় থেমে গেছে। এবার পাঁচ বছর পর ফিরে আসা বড় ঘটনা। প্রশাসনের সহযোগিতা ছিল চমৎকার। ভবিষ্যতে এটা আরও ভালো হবে। ছাত্ররা এখন নেতাদের প্রত্যাশা করছে। যদি তারা প্রতিশ্রুতি রাখে, তাহলে গবি হবে আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও বিস্তারিত বললে, নির্বাচন কমিশনের কাজ ছিল দায়িত্বশীল। তারা সব নিয়ম মেনেছে। ডোপ টেস্টের মতো পদক্ষেপ নতুনত্ব এনেছে। এটা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মডেল হতে পারে। সাভারের লোকাল কমিউনিটিও এতে খুশি। তারা আশা করছে, ছাত্ররা সমাজসেবায় হাত বাড়াবে। উদাহরণস্বরূপ, স্থানীয় স্কুলে সাহায্য করা। এটা ছাত্রদের দায়িত্ববোধ বাড়াবে।

নির্বাচনের পর ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরেছে। ছাত্ররা পড়াশোনায় ফিরে গেছে। কিন্তু এই ঘটনা তাদের মনে থাকবে। এটা দেখিয়েছে যে, গণতন্ত্র কাজ করে। নতুন নেতারা এখন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তারা সফল হলে সবাই লাভবান হবে। গবির গকসু নির্বাচন এখন নতুন অধ্যায় শুরু করেছে।)

প্রশ্ন-উত্তর সেকশন

প্রশ্ন: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গকসু নির্বাচনে কারা জিতেছে? উত্তর: সহ-সভাপতি পদে ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রায়হান খান এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে সামিউল হাসান শোভন জিতেছেন।

প্রশ্ন: নির্বাচন কবে এবং কীভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে? উত্তর: ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৯টা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। গণনা এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হয়েছে।

প্রশ্ন: গকসু নির্বাচনের ইতিহাস কী? উত্তর: ২০১৩ সালে প্রথম নির্বাচন হয়। ২০১৮ সালে তৃতীয় সংসদ গঠিত হয়, কিন্তু ২০২০-এ বিলুপ্ত হয়। এটা চতুর্থ নির্বাচন।

প্রশ্ন: নির্বাচনে কত ভোটার ছিল এবং কত প্রার্থী? উত্তর: মোট ৪,৭৬১ জন ভোটার এবং ১১টা পদে ৬৩ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন।

প্রশ্ন: স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠেছে কি? উত্তর: হ্যাঁ, কিছু প্রার্থী গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কমিশন বলেছে সব নিয়ম মেনে করা হয়েছে।

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গকসু নির্বাচন ছাত্রদের জন্য নতুন আশার আলো। পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর নতুন নেতৃত্ব এসেছে, যা ক্যাম্পাসকে আরও উন্নত করবে। ইয়াসিন, রায়হান আর শোভনের দায়িত্ব এখন বড়। তারা যদি ছাত্রদের স্বপ্ন পূরণ করে, তাহলে গবি হবে দেশের সেরা উদাহরণ। এই নির্বাচন আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্রের শক্তি অপরিসীম। আশা করি, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ এবং উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচন দেখব। ছাত্ররা এগিয়ে যাক, দেশ এগিয়ে যাবে।

DMCA.com Protection Status
Jarif Al Hadee

হ্যালো, আমি জারীফ আল হাদী- Jarif Al Hadee। আমি এই ওয়েবসাইটের এডমিন এবং একজন লেখক। আমি দীর্ঘ ৪ বছর ধরে শিক্ষা সম্পর্কিত লেখালেখির সাথে জড়িত। আমি পাঠকদের মানসম্মত ও আপডেটেড তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করি আমার লেখাগুলোতে। যোগাযোগ- admissiongodesk@gmail.com।