২০২৫ সালের জন্য প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো ও নম্বর বিভাজন চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এতে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মোট ৫টি বিষয়ের ওপর ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময়ব্যাপী এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা দিনে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারের কাঠামো অনুযায়ী, বাংলা, ইংরেজি এবং প্রাথমিক গণিত– এই তিনটি বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ নম্বর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান এই দুটি বিষয়কে একত্রে বিবেচনায় এনে ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি বিষয় থেকে ৫০ নম্বর করে দুটি বিষয়ে সম্মিলিতভাবে একটি দিনেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ৪ আগস্ট প্রকাশিত এক সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন প্রশ্ন কাঠামো পাঠানো হবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি সেভাবেই গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ডোমেনভিত্তিক জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক, এবং উচ্চতর দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এই কাঠামো অনুসারে পরীক্ষা নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো— শিক্ষার্থীদের মুখস্থ নির্ভরতা কমিয়ে দিয়ে বাস্তবমুখী জ্ঞান চর্চা ও সমস্যার সমাধানমূলক চিন্তাভাবনার উন্নয়ন ঘটানো। এছাড়াও বিষয়গুলোতে দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য এই ধরণের প্রশ্ন কাঠামো খুবই কার্যকর হবে।
বছরের শেষদিকে, সম্ভবত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
পরীক্ষার কাঠামো ও নম্বর বিভাজন সংক্ষেপে নিচের টেবিল চার্টে তুলে ধরা হলো:
📘 প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ – প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন
| বিষয় | নম্বর | সময়সীমা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বাংলা | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | পৃথক দিনে পরীক্ষা |
| ইংরেজি | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | পৃথক দিনে পরীক্ষা |
| প্রাথমিক গণিত | ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | পৃথক দিনে পরীক্ষা |
| বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় + প্রাথমিক বিজ্ঞান | ৫০ + ৫০ = ১০০ | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট | একদিনে দুটি বিষয়ে পরীক্ষা |
| মোট | ৪০০ | — | ৫টি বিষয়ের ওপর সম্পূর্ণ পরীক্ষা |
এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী জ্ঞানচর্চা, বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন এবং চিন্তাশক্তি বিকাশ। এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তরে সরকারি বৃত্তি পাবে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই নতুন কাঠামোর প্রতি সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন সময়মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষার সঠিক তারিখ ও কেন্দ্রসমূহ পরে জানানো হবে।










