দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই নোটিশটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া পাঁচজন সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৫,০০০ প্রধান শিক্ষক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। এই নোটিশে তাদের সকলের জন্য দশম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি ২০২৫
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই, বুধবার, আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন। নোটিশটি আইন সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, শিক্ষা সচিব, অর্থ সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সাত দিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, বিষয়টি আদালতের নোটিশে আনা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই দাবির পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। এই রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে উন্নীত করার এবং দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে, কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ, আপিল বিভাগ পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি করে এবং হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। ফলে সকল প্রধান শিক্ষকের জন্য দশম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রদানের নির্দেশ কার্যকর থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি
আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের রায়ের পর ২০২৫ সালের ৭ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৫ জন প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করে। কিন্তু সমস্যা হলো, দেশের প্রায় ৬৫,০০০ প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বাকিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। আইনজীবীর মতে, আদালতের রায় অনুযায়ী, যারা মামলা করেননি তাদেরও সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নজির রয়েছে। এই কারণে, সকল প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। তাদের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা শিক্ষার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দশম গ্রেডে উন্নীত হলে তাদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, যা শিক্ষকদের কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়াবে। এছাড়া, দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
আইনি নোটিশের সাত দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। এই বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের ভবিষ্যতের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও প্রভাব ফেলবে। শিক্ষা সম্পর্কিত সকল আপডেট এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট Admissiongo.com।










