বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি, জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে নরসিংদীর শেখেরগাঁও জে ইউ ফাযিল মাদরাসার দুই শিক্ষকের এমপিও (মাসিক পে-অর্ডার) বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঠিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
মাদরাসার জাল শিক্ষকদের এমপিও বাতিল ২০২৫
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, নরসিংদীর শেখেরগাঁও জে ইউ ফাযিল মাদরাসার দুই শিক্ষক, শুভ (আইসিটি প্রভাষক) এবং ছুলাইমান (আরবী প্রভাষক), জাল সনদ ও সুপারিশপত্র ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছিলেন। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) তাদের সনদ ও সুপারিশপত্র যাচাই করে ভুয়া বলে প্রমাণিত করেছে। ফলে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী এই দুই শিক্ষকের এমপিও বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, এই শিক্ষকদের এতদিন গ্রহণ করা বেতন-ভাতাসহ সব সরকারি সুবিধার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে প্রমাণসহ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য মাদরাসা প্রধানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ এনটিআরসিএর ২০২৫ সালের ২৮ মে’র একটি স্মারকের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এই স্মারকে উল্লেখিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএর সনদ ও সুপারিশপত্র বাধ্যতামূলক। তবে, যদি কোনো শিক্ষক জাল সনদ বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করেন, তবে তাদের এমপিও বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এমপিও বাতিলের প্রভাব
এই ঘটনা শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া শুধু অবৈধ নয়, এটি শিক্ষার মানের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের ফলে মাদরাসা প্রশাসন এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া, এই পদক্ষেপ অন্যান্য শিক্ষকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠান | শেখেরগাঁও জে ইউ ফাযিল মাদরাসা, নরসিংদী |
| শিক্ষকের নাম | শুভ (আইসিটি প্রভাষক), ছুলাইমান (আরবী প্রভাষক) |
| অভিযোগ | জাল এনটিআরসিএ সনদ ও সুপারিশপত্র ব্যবহার |
| ব্যবস্থা | এমপিও বাতিল, বেতন ফেরত, ফৌজদারি মামলা দায়ের |
| নির্দেশনা জারির তারিখ | ২৭ জুলাই, ২০২৫ |
| নীতিমালা | বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ |
শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রাখার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া শিক্ষকরা শুধু নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমপিও বাতিলের মাধ্যমে সরকার এই বার্তা দিয়েছে যে, শিক্ষা খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
ভবিষ্যৎ প্রতিরোধে করণীয়
জাল সনদের ব্যবহার রোধ করতে এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
- কঠোর যাচাই-বাছাই: শিক্ষক নিয়োগের আগে সনদ ও সুপারিশপত্রের যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করা।
- ডিজিটাল ডাটাবেস: এনটিআরসিএ সনদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেসে সংরক্ষণ করে দ্রুত যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: মাদরাসা প্রশাসন ও শিক্ষকদের মধ্যে জাল সনদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- নিয়মিত মনিটরিং: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং জোরদার করা।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার মতো অপরাধ শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই, এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে সহায়ক হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এই বার্তা স্পষ্ট যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমি আশাকরি এই লেখাটি আপনাদের জন্য উপকার হয়েছে। যদি এমন লেখা আরোও পেতে চান তবে আমাদের এই প্লাটফর্মটি ফলো করুন।










