জামালপুরে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষে ২৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার, একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. জাফর আলী। এই আয়োজন জামালপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ঐক্য ও অধিকার আদায়ের প্রতিশ্রুতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল কাদের। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রোমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল হাই, কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মামুন আর রশিদ, অর্থ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।
কর্মচারীদের দাবি ও বক্তব্য
আলোচনা সভায় বক্তারা তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিষয়ে কথা বলেন। তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারীদের জন্য ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।
- পদের নাম পরিবর্তন করে “প্রশাসনিক কর্মকর্তা” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।
- সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান।
বক্তারা জানান, এই দাবিগুলো লিখিতভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার শীঘ্রই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এই দাবিগুলো পূরণ হলে জামালপুরসহ সারাদেশের তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে বলে তারা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে রাজধানী ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দোয়া করা হয়। এছাড়া, দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য উন্নত চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এই উদ্যোগ পরিষদের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটায়।
জামালপুরে এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন শুধু একটি অনুষ্ঠানই নয়, বরং কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও জোরালো করার একটি পদক্ষেপ।










