দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩১ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ইতোমধ্যে ওয়েবসাইট রয়েছে, তাদের তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল শিক্ষা কার্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য। এই নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেল থেকে সোমবার ঘোষণা করা হয়েছে।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশনা
মাউশির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট রয়েছে, তার মধ্যে অনেকের তথ্য পুরোনো বা অপূর্ণাঙ্গ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয় তথ্য বাতায়নের (www.bangladesh.gov.bd) আওতায় নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এছাড়া, ওয়েবসাইটগুলো নিয়মিত হালনাগাদ রাখার জন্যও বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে আলাদাভাবে ওয়েবসাইট তৈরি না করে জাতীয় তথ্য বাতায়নের নির্ধারিত ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করতে হবে। এই ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনা করা হলে অর্থনৈতিক ব্যয় কমবে এবং সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা হবে। এই পদ্ধতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ ও কার্যকর হবে।
ওয়েবসাইটে যে যে তথ্য দিতে হবে
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো অবশ্যই হালনাগাদ রাখতে হবে:
- প্রতিষ্ঠান পরিচিতি: প্রতিষ্ঠানের নাম, ইতিহাস এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য।
- পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি: প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও স্বীকৃতির তথ্য।
- শিক্ষার্থীর তথ্য: শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
- শাখার তথ্য: প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত শাখা ও বিভাগ।
- শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য: শিক্ষক ও কর্মচারীদের নাম এবং যোগাযোগের তথ্য।
- পাঠ্যসূচি ও রুটিন: শ্রেণিভিত্তিক পাঠদানের সময়সূচি।
- এমপিও তথ্য: মাসিক পে-অর্ডার সংক্রান্ত বিস্তারিত।
- যোগাযোগের তথ্য: প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বর ও তথ্য সেবা কেন্দ্রের ঠিকানা।
- অভিযোগ নিষ্পত্তি: অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার নাম ও যোগাযোগের নম্বর।
এই তথ্যগুলো নিয়মিত আপডেট করা হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন।
ওয়েবসাইট আপডেটের সময়সীমা
মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়েবসাইট তৈরি বা হালনাগাদ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটের ঠিকানা www.emis.gov.bd-এর DSHE/EMIS-এর IMS মডিউলে আপলোড করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি করতে হতে পারে।
এই নির্দেশনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সহজে প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে পারবেন। এছাড়া, জাতীয় তথ্য বাতায়নের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার ফলে সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সুগম হবে। এই পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
শেষ কথা
৩১ জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট তৈরি ও হালনাগাদের নির্দেশনা শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি বড় পদক্ষেপ। এই উদ্যোগ সফল হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা সহজে তথ্য পাবেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়বে।










