দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান উন্নত করতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গত সোমবার (১৪ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। এই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ ২০২৫
বৈঠকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনার উন্নতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় জানান, প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হলেও শিক্ষার মান বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা স্কুলগুলোর মূল্যায়ন করে র্যাংকিং করছি। যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।”
মূল্যায়নে দেখা গেছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার মান ভালো, সেখানে প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩২,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নির্দেশ দিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন এবং অভিজ্ঞ, তারা প্রাধান্য পাবেন। তবে তরুণ শিক্ষকদেরও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে।” নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা
শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “তদবিরের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। বদলি প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে হতে হবে।” এই নীতিমালা শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য করবে।
প্রধান উপদেষ্টা স্কুলগুলোতে নারীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “স্কুল ভবন নির্মাণের সময় কমিটিতে অন্তত একজন নারী স্থপতি থাকতে হবে। মেয়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” এছাড়া, শিক্ষার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মেয়েদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করবে এবং শিক্ষার মান আরও উন্নত করবে।
শিক্ষা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও আপডেট জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন Admissiongo.com। এই ওয়েবসাইটে শিক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য সহজে পাওয়া যায়।










